প্রার্থী তালিকায় রফিকার রহমানের নাম না থাকার প্রতিবাদে টায়ার জ্বালিয়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ
দি নিউজ লায়ন; তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় নাম নেই আমডাঙ্গার প্রাক্তন বিধায়ক রফিকার রহমানের।তার জায়গায় প্রার্থী করা হয়েছে মোর্তজা হোসেনকে।এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শুক্রবার বিকেল থেকেই সরব হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়কের অনুগামীরা।সন্ধ্যায় তারা টায়ার জ্বালিয়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কও অবরোধ করেন তারা।ক্ষুব্ধ হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক রফিকাত রহমান নিজেও।শনিবারেও অনুগামীদের ক্ষোভ কিছু অংশে কমেনি।
প্রার্থী বদলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এদিন নিজেও সামিল হয়েছেন রফিকার রহমান।এদিন আমডাঙ্গার পার্টি অফিসে দলের ক্ষুব্ধ অনুগামীদের নিয়ে রীতিমতো বৈঠকও করেছেন আমডাঙ্গার গত ১০ বছরের বিধায়ক।বৈঠক থেকে আমডাঙ্গা থেকে প্রার্থী বদলের জন্য দলনেত্রীর কাছে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বদলের আবেদনে মুখ্যমন্ত্রী পুনঃবিবেচনা করেন কি না,তার উপরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে চান রফিকার। প্রার্থী তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষুব্ধ হলেও দলত্যাগ করতে চান না রফিকার রহমান।
শনিবার আমডাঙ্গার পার্টি অফিসে ক্ষুব্ধ দলের একাংশ কর্মীদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক রফিকার রহমান।আমডাঙ্গা বিধানসভায় ১১ টি পঞ্চায়েত রয়েছে। গত পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল আমডাঙ্গা।বোদাই এবং তারাবেরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে এখনও বোর্ড গঠন হয় নি। এদিনের বৈঠকে ১১ টি পঞ্চায়েতের মধ্যে কয়েকটি পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য,সভাপতি সহ ব্লক সভাপতিরা হাজির ছিলেন। সকলেই অবশ্য প্রাক্তন বিধায়কের অনুগামী। সুত্রের খবর আমডাঙ্গা তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্ধ রয়েছে।প্রাক্তন বিধায়কের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীরা এখানে অনেকটাই শক্তিশালী। সেই কারনেই আমডাঙ্গা থেকে প্রাক্তন বিধায়ককে প্রার্থী করা হয় নি বলেই তৃণমূল সুত্রে জানা গেছে।
বৈঠকের শেষে রফিকার রহমান বলেন দল আমাকে প্রার্থী করলে আমডাঙ্গা নিঃশ্চিত আসন ছিল।কিন্তু প্রার্থী বদল করায় একটা অনিশ্চিয়তার মধ্যে ফেলে দেওয়া হল স্থানীয় কর্মীদের।সাধারন কর্মীরা কিভাবে মেনে নেবে জানি না।ক্ষুব্ধ দলের কর্মীরা নির্বাচনে কাজ করতে রাজি নয়।তিনি বলেন বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রার্থী পুনঃবিবেচনার জন্য মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানানো হবে।মুখ্যমন্ত্রী কি সিদ্ধান্ত নেন,সেই দিকেই তাকিয়ে আছি।তিনি অবশ্য দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিতে রাজি নন।
সদ্য প্রার্থী হওয়া মোর্তজা হোসেন বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী করেছেন।আমি দলের কর্মী হিসেবে তার নিরদেশ পালন করব।হয়তো কারো কারো মনক্ষুন্ন হয়েছে। দুদিন পরে মিটেও যাবে।তবে আমডাঙ্গার সাধারন মানুষও আমডাঙ্গায় প্রার্থী বদল চেয়েছে।
এদিকে বনগাঁ উত্তরের তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বনগাঁ পুরসভার প্রশাসক শংকর আডডর অনুগামী তৃণমূল কর্মীরা।শনিবার প্রার্থী বদলের দাবিতে মিছিল, বিক্ষোভ থেকে রাস্তা অবরোধ কিছুই বাদ যায় নি বনগাঁ শহরে।এদিন শংকর আডডর অনুগামীরা বনগাঁর ত্রিকোণ পার্ক সংলগ্ন তৃণমূলের পার্টি অফিস থেকে মিছিল শুরু করেন কয়েকশ তৃণমূল কর্মীরা।
বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন বিশ্বজিৎ দাস।কিন্তু গত লোকসভার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।এবার সেই কেন্দ্রেই দলনেত্রী প্রার্থী করেছেন চারবারের জেলা পরিষদের সদস্য শ্যামল রায়কে।এই কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়ার জন্য দলের কাছে আবেদন করেছিলেন বনগাঁ পুরসভার প্রশাসক শংকর আডড। বছর দেড়েক আগে শংকর আডডর বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে পুরসভার একটা বড় অংশের কাউন্সিলাররাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। অনেক রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং রাজ্য নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে বনগাঁ পুরসভা দখলে রাখতে পেরেছিল তৃণমূল। সব দিক বিবেচনা করেই এবার দল শ্যামল রায়কেই বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছেন।
কিন্তু শংকর আডডকে প্রার্থী না করায় শুক্রবার বিকেল থেকেই তার অনুগামীরা শংকর আডডকে প্রার্থীর দাবি জানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করেছেন।এদিন শংকরকে প্রার্থী করার দাবি নিয়ে বাটার মোড়ে যশোর রোড অবরোধ করেন শংকরের অনুগামীরা। রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও বিক্ষোভ দেখান তারা।
অশোকনগরে গত দুটো টার্মে বিধায়ক ছিলেন ধিমান রায়।এবারের নির্বাচনেও দল তাকেই অশোকনগর থেকে প্রার্থী করেছেন।প্রার্থী হিসেবে ধিমান রায়ের নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে দলের একাংশ ক্ষেভ প্রকাশ করেছেন এদিন।শনিবার বিকেলে তৃণনূলের দলিয় পতাকা নিয়ে প্রার্থী বদলের দাবিতে তারা হাবরা নৈহাটি রোড অবরোধ করেন।স্থানীয় হিজলিয়া মোড়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘক্ষন পথ অবরোধ করেন দলের একাংশ।
আমডাঙ্গা থেকে বনগাঁ সহ অশোকনগরে প্রার্থী বদলের দাবিতে দলের মধ্যেই ক্ষোভ বিক্ষোভ প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন এরা সকলেই দলের সক্রিয় কর্মী।তৃণমূল ক্ষমতায় আস্য এদের অবদান ছিল।কিন্তু মনে রাখতে হবে দলের নির্বাচন কমিটি প্রার্থী নির্বাচন করেছেন।ফলে দলের সিদ্ধান্ত সকলকেই মেনে চলতে হবে।আমি এই বিষয়ে সকলের সাথেই কথা বলেছি।হয়তো মনক্ষুন্ন হয়েছেন কেউ কেউ।দুদিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে।দলের সিদ্ধান্ত সকলকেই মান্যতা দিতে হবে।
Post a Comment